দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের লবণ খাওয়ানো কি ক্ষতিকারক?

 দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের খাবারে লবণ যোগ করা তাদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। শিশুদের কিডনি সম্পূর্ণরূপে বিকশিত হয় না, তাই অতিরিক্ত লবণ তাদের কিডনির ওপর চাপ সৃষ্টি করে, যা দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির কারণ হতে পারে।


কেন শিশুদের লবণ দেওয়া উচিত নয়?

  • দুর্বল কিডনি: ছোট বাচ্চাদের কিডনি অপরিণত থাকে এবং অতিরিক্ত সোডিয়াম ফিল্টার করতে পারে না। এর ফলে, শরীরে অতিরিক্ত লবণ জমা হয়, যা তাদের কিডনির ওপর মারাত্মক চাপ ফেলে। সময়ের সাথে সাথে এটি কিডনি বিকল হওয়ার মতো গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

  • উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি: অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার ফলে শিশুদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। যদিও এটি প্রাপ্তবয়স্কদের একটি সাধারণ সমস্যা, কিন্তু শৈশব থেকেই এর ভিত্তি তৈরি হলে ভবিষ্যতে হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়।

  • স্বাদ তৈরি: খুব অল্প বয়স থেকে শিশুদের লবণযুক্ত খাবার দিলে তাদের স্বাদের অভ্যাসে পরিবর্তন আসে। পরবর্তীতে তারা কম লবণযুক্ত বা স্বাস্থ্যকর খাবার পছন্দ করে না, যা ভবিষ্যতে তাদের ডায়েটকে প্রভাবিত করে।


কখন লবণ দেওয়া শুরু করা যায়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর বয়স এক বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত খাবারে লবণ যোগ করা উচিত নয়। এরপর থেকে খুব অল্প পরিমাণে লবণ ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে তা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী হওয়া বাঞ্ছনীয়। তিন বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের জন্য প্রতিদিনের লবণ গ্রহণ এক গ্রাম বা তার কম রাখা নিরাপদ।



লবণের বিকল্প কী ব্যবহার করা যায়?

শিশুদের খাবার সুস্বাদু করার জন্য লবণ ছাড়া অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন:

  • বিভিন্ন সবজি: গাজর, মিষ্টি কুমড়া, বা বিটের মতো প্রাকৃতিক মিষ্টিযুক্ত সবজি ব্যবহার করা যেতে পারে।

  • মসলা: এলাচ, দারুচিনি, জিরা, বা সামান্য ধনে পাতা ব্যবহার করে খাবারের স্বাদ বাড়ানো যায়। তবে, এই ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

মনে রাখতে হবে, বুকের দুধ বা ফর্মুলাতেই শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় সোডিয়াম থাকে। তাই, বাড়তি লবণ যোগ করার কোনো প্রয়োজন নেই। শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে, প্রাকৃতিক এবং অপ্রক্রিয়াজাত খাবার দেওয়া সবচেয়ে ভালো।

Comments

Popular posts from this blog

"Nurturing Little Ones: A Guide to Child Care"

agenttogelll